দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনের রেকর্ড ধরে রেখেছে। কিন্তু সেই রেকর্ড এবার বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। সৌদি আরবের জেদ্দায় নির্মাণাধীন Jeddah Tower শেষ হলে এর উচ্চতা এক কিলোমিটারেরও বেশি হতে পারে। ফলে এটি বুর্জ খলিফাকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন হওয়ার পথে রয়েছে।
বছরের পর বছর স্থবির থাকার পর প্রকল্পটির নির্মাণকাজ আবার গতি পেয়েছে। সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে টাওয়ারটি ১০০ তলার মাইলফলকও অতিক্রম করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
🏗️ জেদ্দা টাওয়ার কতটা উঁচু হবে?
জেদ্দা টাওয়ারের পরিকল্পিত উচ্চতা ১,০০০ মিটারের বেশি। তুলনায় দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার উচ্চতা ৮২৮ মিটার। অর্থাৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী জেদ্দা টাওয়ার সম্পন্ন হলে উচ্চতার ব্যবধান হবে প্রায় ১৭০ থেকে ১৮০ মিটার বা তারও বেশি।
টাওয়ারটির নকশা করেছেন স্থপতি Adrian Smith ও তাঁর প্রতিষ্ঠান Adrian Smith + Gordon Gill Architecture। একই স্থপতি বুর্জ খলিফার নকশার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
🎬 জেদ্দা টাওয়ারের নির্মাণকাজের অগ্রগতি দেখুন
ভিডিও সৌজন্যে: News24
📍 কোথায় তৈরি হচ্ছে এই বিশাল টাওয়ার?
জেদ্দা টাওয়ার সৌদি আরবের জেদ্দা শহরের উত্তরাঞ্চলে নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি বৃহৎ Jeddah Economic City প্রকল্পের অন্যতম প্রধান অংশ। ভবিষ্যতে এই এলাকা ব্যবসা, আবাসন, পর্যটন ও বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
⏳ কেন থেমে গিয়েছিল নির্মাণকাজ?
জেদ্দা টাওয়ারের নির্মাণ শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে। তবে ২০১৮ সালের দিকে কাজ কার্যত থেমে যায় এবং বহু বছর ধরে প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় ছিল। পরে নতুন চুক্তি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে নির্মাণকাজ আবার শুরু করা হয়।
সৌদি আরবের Kingdom Holding Company ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ ও কংক্রিট ঢালাই পুনরায় শুরুর ঘোষণা দেয়। নতুন পর্যায়ে প্রকল্পটির কাজ আগের তুলনায় দ্রুত এগোতে থাকে।
📊 বুর্জ খলিফা বনাম জেদ্দা টাওয়ার
- বুর্জ খলিফা: উচ্চতা ৮২৮ মিটার।
- জেদ্দা টাওয়ার: পরিকল্পিত উচ্চতা ১,০০০ মিটারের বেশি।
- লক্ষ্য: সম্পন্ন হলে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনের রেকর্ড অর্জন করা।
- অবস্থান: জেদ্দা, সৌদি আরব।
🏙️ টাওয়ারটির ভেতরে কী থাকবে?
জেদ্দা টাওয়ার শুধু উচ্চতার রেকর্ড গড়ার জন্য তৈরি হচ্ছে না। পরিকল্পনা অনুযায়ী এতে আবাসিক ইউনিট, অফিস, হোটেল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক সুবিধা থাকবে। ভবনের ওপরের দিকে একটি বিশাল পর্যবেক্ষণ এলাকা বা Sky Terrace রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রকল্পের নকশায় বাতাসের চাপ মোকাবিলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভবনটির Y-আকৃতির কাঠামো এবং ধীরে ধীরে সরু হয়ে যাওয়া নকশা উচ্চতার সঙ্গে বাতাসের প্রভাব কমাতে সহায়তা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
🚧 এক কিলোমিটার উঁচু ভবন বানানো কতটা কঠিন?
এত উঁচু ভবন নির্মাণ সাধারণ আকাশচুম্বী ভবনের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। বাতাসের চাপ, কাঠামোর স্থায়িত্ব, লিফট পরিচালনা, কংক্রিট পরিবহন এবং হাজার মিটার উচ্চতায় নির্মাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া—সবকিছুতেই অত্যাধুনিক প্রকৌশল দরকার।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, জেদ্দা টাওয়ারে কংক্রিট প্রায় এক কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত পাম্প করার মতো প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
🔭 বুর্জ খলিফার রেকর্ড কি সত্যিই ভাঙবে?
পরিকল্পিত উচ্চতা অনুযায়ী উত্তর হলো—হ্যাঁ। জেদ্দা টাওয়ার সম্পূর্ণভাবে নির্মিত হয়ে ১,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় পৌঁছালে বুর্জ খলিফার ৮২৮ মিটারের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। তবে বর্তমানে এটি এখনও নির্মাণাধীন। তাই চূড়ান্ত রেকর্ড নির্ভর করবে প্রকল্পটি পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হওয়ার ওপর।
২০২৬ সালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে টাওয়ারটির নির্মাণকাজ ১০০ তলার মাইলফলক অতিক্রম করার কথা উঠে এসেছে। একই সঙ্গে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী ২০২৮ সালের আগস্ট নাগাদ কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
❓ জেদ্দা টাওয়ার নিয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
১. জেদ্দা টাওয়ার কত মিটার উঁচু হবে?
পরিকল্পনা অনুযায়ী এর উচ্চতা ১,০০০ মিটারের বেশি হবে। নির্দিষ্ট চূড়ান্ত উচ্চতা প্রকল্পের শেষ পর্যায়ের নকশা ও নির্মাণের ওপর নির্ভর করবে।
২. জেদ্দা টাওয়ার কি বুর্জ খলিফার চেয়ে উঁচু হবে?
পরিকল্পিত উচ্চতা অনুযায়ী হবে। বুর্জ খলিফা ৮২৮ মিটার উঁচু, আর জেদ্দা টাওয়ারের লক্ষ্য ১,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় পৌঁছানো।
৩. জেদ্দা টাওয়ার কবে শেষ হওয়ার কথা?
বর্তমান প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী ২০২৮ সালের আগস্টের দিকে নির্মাণ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে বড় নির্মাণ প্রকল্পে সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে।
🏁 শেষ কথা
বুর্জ খলিফা যখন নির্মিত হয়েছিল, তখন এক কিলোমিটার উচ্চতার ভবন ছিল প্রায় কল্পনার মতো। এবার সৌদি আরবের জেদ্দা টাওয়ার সেই সীমাকে বাস্তবে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। নির্মাণকাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে গেলে ভবিষ্যতে এটিই বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনের নতুন রেকর্ডধারী হতে পারে।
তবে রেকর্ডের পাশাপাশি প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে—এত বিশাল কাঠামোকে নিরাপদ, কার্যকর ও স্থায়ীভাবে সম্পন্ন করা। তাই জেদ্দা টাওয়ার শুধু উচ্চতার প্রতিযোগিতা নয়, আধুনিক প্রকৌশলেরও একটি বড় পরীক্ষা।
