মানুষের জীবন ছেড়ে কোটি টাকা খরচ করে কুকুর হলেন জাপানি যুবক!
মানুষের শখের কোনো সীমা নেই। কেউ নতুন কিছু সংগ্রহ করতে ভালোবাসেন, কেউ আবার নিজের চেহারা বা জীবনযাপনে আনেন বড় ধরনের পরিবর্তন। তবে জাপানের এক যুবকের শখ যেন সবকিছুকেই ছাড়িয়ে গেছে। বাস্তব কুকুরের মতো দেখতে একটি বিশেষ পোশাক তৈরি করিয়ে তিনি নিজের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন পূরণ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘Toco’ নামে পরিচিত এই জাপানি ব্যক্তি বাস্তবসম্মত কুকুরের পোশাক পরে চার পায়ে হাঁটা, মাটিতে গড়াগড়ি দেওয়া এবং কুকুরের মতো বিভিন্ন আচরণ করার ভিডিও প্রকাশ করে আলোচনায় আসেন।
ভিডিও সৌজন্যে: Atn Bangla News
🐕 কীভাবে মানুষ থেকে কুকুরের রূপ নিলেন?
বাস্তবে তিনি কোনো অস্ত্রোপচার করে নিজেকে কুকুরে পরিণত করেননি। বরং একটি বিশেষ ধরনের অত্যন্ত বাস্তবসম্মত কস্টিউম তৈরি করিয়েছেন। পোশাকটির নকশা করা হয়েছিল কোলি জাতের কুকুরকে অনুসরণ করে।
জাপানের বিশেষায়িত মডেল ও কস্টিউম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Zeppet জানিয়েছে, ব্যক্তিগত একজন গ্রাহকের জন্য এই কোলি মডেলের ডগ স্যুট তৈরি করা হয়েছিল। পোশাকটিতে চার পায়ে চলাফেরার বিষয়টিও বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়।
💰 কুকুরের পোশাক বানাতে কত টাকা খরচ?
এই ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিভিন্ন অঙ্ক উল্লেখ করা হয়েছে। তবে Zeppet-এর নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ওই কোলি মডেলের কস্টিউমের উৎপাদনমূল্য ছিল প্রায় ২০ লাখ জাপানি ইয়েন থেকে শুরু এবং এটি তৈরি করতে প্রায় ৪০ দিন সময় লেগেছিল।
তাই ‘কোটি টাকা খরচ’ কথাটি আক্ষরিক অর্থে সঠিক নয়। প্রচলিত শিরোনামে বিষয়টি আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করা হলেও যাচাইযোগ্য তথ্য অনুযায়ী খরচ ছিল কোটি টাকার অনেক নিচে।
🎭 কেন এমন পোশাক তৈরি করালেন Toco?
Toco-এর নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকেই প্রাণী হয়ে ওঠার একটি স্বপ্ন তার মধ্যে ছিল। সেই ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি বাস্তব কুকুরের মতো দেখতে একটি কস্টিউম তৈরির সিদ্ধান্ত নেন।
Zeppet-এর প্রকাশিত তথ্যেও বলা হয়েছে, শৈশব থেকেই তার প্রাণী হওয়ার একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল এবং সেই স্বপ্ন থেকেই তিনি কোলির আদলে একটি বাস্তবসম্মত কস্টিউম তৈরির অর্ডার দেন।
📱 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কীভাবে ভাইরাল হলেন?
কস্টিউমটি পাওয়ার পর Toco নিজের বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতে শুরু করেন। ভিডিওগুলোতে তাকে কুকুরের মতো পোশাক পরে চার পায়ে চলাফেরা করতে দেখা যায়। পরে তার এই অদ্ভুত শখ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
তার অনলাইন কর্মকাণ্ডের মধ্যে কুকুরের মতো হাঁটা, মাটিতে গড়াগড়ি দেওয়া এবং অন্যান্য কুকুরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে। এসব ভিডিওই তাকে অনলাইনে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।
🐾 এটি কি সত্যিই কুকুরে রূপান্তর?
না। এখানে ‘কুকুর হওয়া’ বলতে শারীরিকভাবে মানুষ থেকে কুকুরে রূপান্তর বোঝানো হচ্ছে না। এটি মূলত একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত কস্টিউমের মাধ্যমে কুকুরের চেহারা ও চলাফেরা অনুকরণ করার ঘটনা।
Zeppet-এর তথ্য অনুযায়ী, মানুষের দুই পায়ের শারীরিক কাঠামোর সঙ্গে কুকুরের চার পায়ের কাঠামোর বড় পার্থক্য থাকায় এমন কস্টিউম তৈরি করা বেশ জটিল ছিল। নির্মাতারা সেই পার্থক্য মাথায় রেখেই পোশাকটির নকশা করেন।
❓ পাঠকদের সাধারণ প্রশ্ন
১. জাপানি যুবকটি কি সত্যিই কুকুরে পরিণত হয়েছেন?
না। তিনি কুকুরে শারীরিকভাবে রূপান্তরিত হননি। একটি বিশেষভাবে তৈরি বাস্তবসম্মত কুকুরের কস্টিউম পরে তিনি কুকুরের মতো দেখতে ও চলাফেরা করেন।
২. কস্টিউমটি কত টাকা দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল?
Zeppet-এর তথ্য অনুযায়ী, কোলি মডেলের কস্টিউমটির উৎপাদনমূল্য প্রায় ২০ লাখ জাপানি ইয়েন থেকে শুরু হয়েছিল। জাত ও আকার অনুযায়ী দাম পরিবর্তিত হতে পারে।
৩. কেন তিনি এমন কস্টিউম তৈরি করেছিলেন?
Toco-এর প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকেই তার প্রাণী হওয়ার একটি স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্যই তিনি বাস্তব কুকুরের মতো দেখতে কস্টিউম তৈরি করান।
শেষ কথা
জাপানি যুবক Toco-এর ঘটনা নিঃসন্দেহে অদ্ভুত ও কৌতূহল জাগানো। তবে ঘটনাটিকে ‘মানুষ সত্যিই কুকুর হয়ে গেছেন’ হিসেবে দেখার চেয়ে একটি ব্যতিক্রমী ব্যক্তিগত শখ এবং অত্যন্ত উন্নতমানের কস্টিউম তৈরির ঘটনা হিসেবে দেখা বেশি সঠিক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রচলিত ‘কোটি টাকা’ দাবির পরিবর্তে যাচাইযোগ্য সূত্রে পাওয়া প্রকৃত খরচের তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়া।